কেন বুর্জ খালিফা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এতটা আকর্ষণের জায়গা? বুর্জ খলিফা এর ইতিহাস ।

               


  লিংকে ক্লিক করাতে আমি বুঝেই গেছি - আপনি হয় ভ্রমণপিপাসু, নয়তো অজানাকে জানবার এক অদম্য ইচ্ছা আপনার মধ্যে বর্তমান। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। কিন্তু জানেন কি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন কোনটি?....... হ্যাঁ ঠিকই ভাবছেন। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খালিফা। কিন্তু আপনি কি জানেন- কবে বুর্জ খালিফা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল? কেন এর নাম বুর্জ খালিফা রাখা হলো? কতদিনবা লেগেছিল? আর এর আগেইবা কোন বিল্ডিং পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিল্ডিং ছিল? কেন বুর্জ খালিফা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এতটা আকর্ষণের জায়গা? তাহলে এ সমস্ত কিছু তথ্য রইল আপনার জন্য।


                 গগনচুম্বী অট্টালিকা মানেই বুর্জ খালিফা। যা বুর্জ দুবাই নামেও পরিচিত। ইউনাইটেড আরব এমিরেটস এর দুবাইতে গগনচুম্বী এই অট্টালিকা অবস্থিত। 2009 সাল থেকে আজও সারা পৃথিবীতে রাজ করে চলেছে প্রায় 130 মিটার অর্থাৎ 2722 ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই গগনচুম্বী অট্টালিকা। এর আগে পৃথিবীর উচ্চতম অট্টালিকার ছিল তাইপেই 101


                2004 সালের 6 জানুয়ারি অট্টালিকার নির্মাণকার্য শুরু হয়। জানলে অবাক হবেন এই বিল্ডিং নির্মাণে প্রায় 7500 প্রশিক্ষিত শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছিল। যার বেশির ভাগটাই ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, তথা দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অধিবাসী। পাঁচ বছর ধরে এর নির্মাণকার্য চলেছিল। নির্মাণকার্য শেষ হয়েছিল 2009 সালের 1 অক্টোবর। দর্শক সাধারণ ও আবাসিকদের জন্য এটি খুলে দেয়া হয়েছিল 2010 সালের 4 জানুয়ারি। মূলত বিশেষ শক্তিশালী কনক্রীট, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে এই অট্টালিকা নির্মিত। 163 তলার এই অট্টালিকায় 154 টি বসবাসের জন্য ও উপরের নয়টি তলা অট্টালিকা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। 

                 গগনচুম্বী এই বিল্ডিংয়ের ডিজাইন মূলত ইসলামিক স্থাপত্য সামারা মসজিদ এর থেকে প্রাপ্ত। এই বিল্ডিং এর বিভিন্ন তলায় যাতায়াতের জন্য মোট 57 টি লিফ্ট ও 8 টি চলন্ত সিঁড়ি ও 2909 দি সাধারণ সিঁড়ি অবস্থিত। 





নামকরণের ইতিহাস- 

                       বুর্জ খালিফার নাম প্রথমে কিন্তু বুর্জখালিফা ছিল না। বুর্জ দুবাই নামে পরিচিত ছিল পৃথিবীর উচ্চতম বিল্ডিং। বুর্জ খালিফা নামকরণ হয়েছে শেখ খালিফার নাম  থেকেই। কিন্তু কেন এমন নামকরণ? এর পিছনে রয়েছে এক ইতিহাস। সেক খালিফা যার সম্পূর্ণ নাম খালিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান। একসময় তিনি আবুধাবির শাসক ও পরবর্তীকালে ইউনাইটেড আরব এমিরেটস রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। আবুধাবির এই শাসক দুবাই কে 10 বিলিয়ন ডলার সাহায্য করেছিলেন যাতে করে দুবাই বুর্জ দুবাই এর নির্মাণকার্য চালিয়ে যেতে পারে। আর এর পরেই এই শাসকের সম্মানে বুর্জ দুবাই এর নাম বদলে রাখা হয় বুর্জ খালিফা। 

                     নির্মাণ ধারণা হাইমনোক্যালিস নামক একটি ফুলের আদলে বুর্জ খালিফা নির্মাণ করা হয়েছে। যতই উপরের দিকে উঠে যায় ততই এই ফুলের পাপড়ির মতন বুর্জ খালিফার প্রস্থ কমতে থাকে। 

                   এ বিরাট অট্টালিকায় প্রায় 3000 টি কক্ষ রয়েছে। নয়টি হোটেল রয়েছে প্রায় তিন হেক্টর জায়গা বিশিষ্ট পার্কল্যান্ড রয়েছে। 19 টি বসবাসকারী স্কাইস্ক্র্যাপার রয়েছে। পৃথিবীর সুপরিচিত দুবাই মল রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে 12 হেক্টর জায়গা বিশিষ্ট একটি কৃত্রিম বুর্জ খালিফা লেক। আমরা সবাই জানি দুবাই এর অর্থনীতি মূলত খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। এমত অবস্থায় ওখানকার সরকার অর্থনীতিতে বৈচিত্র আনার জন্য ট্যুরিজম এর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। আর এই কারণেই এমন ব্যয়বহুল অট্টালিকা এখানে তৈরি করা হচ্ছে। শুধু খনিজ তেল বা গ্যাস নয় যাতে করে সারা পৃথিবীতে ট্যুরিজম ক্ষেত্র হিসেবে দুবাইয়ের নাম ছড়িয়ে পড়ে ওখানকার সরকার সেদিকেও নজর রেখেছে। 


                       জানলে অবাক হবেন বুর্জখালিফা তে প্রতিদিন প্রায় 9 লাখ 46 হাজার লিটার জল ব্যবহার করা হয়। এর এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেম এর জন্য উপরের তলার বাতাস গ্রহণ করা হয়।  এই বিরাট অট্টালিকায় শুধুমাত্র বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে 36 জন শ্রমিকের তিন থেকে চার মাস লেগে যায়। 





দুবাই ফোয়ারা-  বিশ্ব বিখ্যাত বুর্জ খালিফার অন্যতম আকর্ষণ হলো দুবাই ফোয়ারা। প্রায় 217 মিলিয়ন ডলার খরচ করে এই ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রায় 6603 নানান ধরনের লাইট ও 50 টি প্রজেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে গানের তালে তালে জলের রঙিন এর নৃত্য লক্ষ্য করা যায়। 



 পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র - শহরের সব থেকে উচু বিল্ডিং থেকে সারা শহরকে লক্ষ করার অভিজ্ঞতা অর্জন এর ইচ্ছা আমাদের সকলের মধ্যেই আছে। এই কথাটা মাথায় রেখে বুর্জ খালিফার 124 তম তলাতে At The Top নামের এক পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে 148 তলাতে স্কাই লেভেল নামের আরেকটি অবজারভেশন ডেস্ক তৈরি করা হয়। পৃথিবীর  সর্বোচ্চ অবজারভেশন ডেস্ক। এখান থেকে সারা দুবাই এর 90 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জিনিসকে আপনি লক্ষ্য করতে পারবেন। 

                   এই বিরাট অট্টালিকায় নির্মাণে আনুমানিক 1.5 বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছিল। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন এত খরচের করে আয় কিভাবে হবে? তাহলে আসা যাক বুর্জ খালিফার আয় কিভাবে আসে। প্রথমেই বলা হয়েছে বুর্জ খালিফাতে মল আছে, রেসিডেন্সিয়াল Apartments আছে, অফিস আছে। এককথায় বুর্জখালিফা যেনো এক ক্ষুদ্র পৃথিবী। আপনি যদি ভাবেন যে আপনার অফিসটি আপনি বুর্জ খালিফা তে স্থাপন করবেন, তাহলে আপনার জেনে রাখা দরকার প্রতি বর্গফুট এর জন্য আপনাকে 4000 মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে। আর যদি ভাবেন পৃথিবীর উচ্চতম অট্টালিকায় আপনি বসবাস করবেন, আপনার দিন অতিবাহিত করবেন, তাহলে প্রতি বর্গফুটের জন্য আপনাকে 3500 মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে। বুর্জখালিফা ওপেনিং- এর পর এক বছরের মধ্যে এর বেশিরভাগ অ্যাপার্টমেন্টেই ফাঁকা ছিল। কিন্তু ঠিক পরের এক বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইনভেস্টর, ধনী ব্যক্তিরা এপারমেন্ট গুলো কিনতে শুরু করে। 2012 এর প্রায় শেষের দিকে এর বেশিরভাগ অ্যাপার্মেন্ট বিক্রি হয়ে যায়। 

             পৃথিবীর বিখ্যাত এই সেভেন স্টার হোটেলে আপনি যেমন পার্কিংয়ের সুবিধা পাবেন। তেমনি এখানে আছে হোটেল, রেসিডেন্স, অফিস, মেকানিক্যাল হেল্প, স্কাই লবি, সুইমিং পুল, গেমিং জোন, অডিটোরিয়াম, পার্ক, কর্পোরেট সুইট, রেস্টুরেন্ট, অবজারভেশন ডেস্ক, ইত্যাদি। এক কথায় পুরো পৃথিবীকে এক ছাদের তলায় পেয়ে যাওয়া। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.